
রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দারুচিনি বহুল ব্যবহৃত একটি মসলা। তবে বাজারে আসল দারুচিনির পাশাপাশি ক্যাসিয়া নামের এক ধরনের গাছের ছালও বিক্রি হয়। দেখতে কাছাকাছি হলেও দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ক্যাসিয়ায় ‘কুমারিন’ নামের একটি উপাদান তুলনামূলক বেশি থাকে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে ক্যাসিয়া খেলে লিভারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, সিলন দারুচিনিতে কুমারিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
আসল দারুচিনি চেনার কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে।
স্তর ও পুরুত্ব
আসল দারুচিনির ছাল তুলনামূলক পাতলা। ভালোভাবে দেখলে এর ভেতরে অনেকগুলো পাতলা স্তর গোল করে পেঁচানো দেখা যায়। ক্যাসিয়ার ছাল সাধারণত মোটা, শক্ত ও খসখসে হয় এবং এতে সূক্ষ্ম স্তর কম থাকে।
ভাঙার উপায়
আসল দারুচিনি তুলনামূলকভাবে হালকা এবং সহজেই ভেঙে ফেলা যায়। ক্যাসিয়া বেশি শক্ত ও ভারী হওয়ায় ভাঙতে তুলনামূলক বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়।
স্বাদ ও গন্ধ
আসল দারুচিনির ঘ্রাণ মিষ্টি ও কোমল। চায়ে ব্যবহার করলে হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। ক্যাসিয়ার গন্ধ তুলনামূলকভাবে তীব্র ও ঝাঁঝালো হতে পারে।
গুঁড়ো দারুচিনি কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা
আগে থেকে গুঁড়ো করা দারুচিনিতে আসল মসলা নাকি ক্যাসিয়া বা অন্য কিছু মেশানো হয়েছে, তা খালি চোখে বোঝা কঠিন। তাই সম্ভব হলে গোটা দারুচিনি কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িতে গুঁড়ো করে ব্যবহার করা ভালো।
কীভাবে সংরক্ষণ করবেন
আস্ত দারুচিনি পরিষ্কার ও শুকনো এয়ারটাইট কৌটায় রাখতে হবে। কৌটি স্যাঁতসেঁতে জায়গা, পানির বেসিন বা গ্যাসের চুলার কাছাকাছি রাখা উচিত নয়। আর্দ্রতা মসলার গুণমান নষ্ট করতে পারে। ব্যবহারের পর কৌটার মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন।